দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন

একদিনে সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ

দীর্ঘদিনের মন্দা ভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার।

দীর্ঘদিনের মন্দা ভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সাপ্তাহিক ছুটি ও আশুরার ছুটি শেষে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সূচক ও লেনদেন উভয়ই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটিতে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ মে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর প্রায় দুই মাস পর গতকাল লেনদেন সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিন ডিএসইএক্স সূচক ৮২ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪ হাজার ৮৯৪ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৫ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬৫ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৩৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৮৩৬ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, সিটি ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৫৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫০৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৭৭টির, কমেছে ৭২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির বাজারদর।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগ ব্যাংক খাতের বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। এছাড়া বেশকিছু বড় মূলধনি শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে তিনটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২ দশমিক ৯ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে পাট খাতে সবচেয়ে বেশি দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাত এবং বহুজাতিক কোম্পানি খাতে দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১১৩ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১৮৪ দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৮১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৪৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ৪৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২১৫ কোটি টাকা।

আরও